পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে; পার্বত্যমন্ত্রী


আলমগীর মানিক    |    ০৬:৩৯ পিএম, ২০২৬-০৪-২৮

পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশ রক্ষায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে; পার্বত্যমন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত সংকট—যেমন বন উজাড়, মাটি ক্ষয়, খরা ও ভূমিধস—মোকাবেলায় সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের টেবিলে উত্থাপিত এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাঙ্গামাটি জেলায় ৮০ হাজার, খাগড়াছড়িতে ৮২ হাজার ২৫০টি এবং বান্দরবান জেলায় ১ লাখ ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘একটি শিশু একটি গাছ’ কর্মসূচির আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলায় মোট ৫ লাখ গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে ২৫ হাজার চারা রোপণের কাজ চলছে।

পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাঙ্গামাটিতে ভূমিধস প্রতিরোধে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং বান্দরবানে কৃষি উন্নয়নের জন্য বাঁধ ও সেচ সুবিধা উন্নয়ন প্রকল্প। পাশাপাশি মাটি ক্ষয় ও ভূমিধস রোধে তিন পার্বত্য জেলায় বাঁশ রোপণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের তত্ত্বাবধানে এডিবি ও সরকারের অর্থায়নে ‘জলবায়ু সহনশীল জীবিকা উন্নয়ন ও জলাধার ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় ৯টি উপজেলায় পানি সরবরাহ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবেশগত সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।